বাংলাদেশ পুলিশে জনবল বৃদ্ধি করতে আরও ১০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে নতুন পদ সৃষ্টি এবং নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেডে ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টি করা হবে। এসব পদে ধাপে ধাপে ৮ হাজার ৫০০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫০০ জন নারী কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগ সম্পন্ন হলে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদের সংখ্যা বর্তমান ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ থেকে বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৮-এ উন্নীত হবে। বর্তমানে কনস্টেবল থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) পর্যন্ত ক্যাডার, নন-ক্যাডার এবং সিভিল পদ মিলিয়ে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৯২০।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পুলিশ ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু নঈম জানিয়েছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো প্রস্তাব বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পদগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সৃষ্টি হবে এবং পুলিশ সদর দপ্তর নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও পেশাদার ও কার্যকর করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান। পরে ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠির মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের বিষয়টি অবহিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ ৮টি রেঞ্জ, ৬৪টি জেলা পুলিশ, ৮টি মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), শিল্প পুলিশ, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এমআরটি, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো, নিয়মিত টহল, কার্যকর আইন প্রয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদস্যদের ছুটি ও কর্মঘণ্টা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই, এমআরটি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও এপিবিএনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত জনবল অনুমোদিত হয়নি। এছাড়া বর্তমানে দেশে পুলিশ-জনসংখ্যার অনুপাত ৮৬৬:১, যেখানে জাতিসংঘের শান্তিকালীন আদর্শ অনুপাত ৪০০:১ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ১০ হাজার পদ অনুমোদনের পর নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস এবং প্রশিক্ষণ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হবে।
কসমিক ডেস্ক