পরীক্ষামূলক মূল্যায়নের সময় মেটার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি একটি অনিচ্ছাকৃত কনফিগারেশন ত্রুটির কারণে ঘটেছে এবং বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন।
মেটার এক মুখপাত্র জানান, পরীক্ষার সময় একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) নামের এআই মডেলটি সীমাবদ্ধ পরিবেশের বাইরে ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ পায়। এর ফলে মডেলটি একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা ব্যবহার করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশ করে।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইরেগুলার (Irrgular)-এর পরীক্ষামূলক সেটআপে থাকা কনফিগারেশন ত্রুটির কারণেই এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এটি কোনো স্যান্ডবক্স ভেঙে বেরিয়ে আসা বা পরিকল্পিত সাইবার হামলার ঘটনা নয়; বরং মূল্যায়ন পরিবেশের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল।
ইরেগুলার আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি অ্যানথ্রপিক গত সপ্তাহে প্রকাশ করা একই ধরনের মূল্যায়ন-পরিবেশজনিত সমস্যার সঙ্গে মিল রয়েছে। সে সময় সীমিত ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার পর কয়েকটি এআই মডেল তিনটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল।
দ্য ইনফরমেশন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটার এআই মডেলটি একটি অজ্ঞাত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশ করে সেখানে কিছু পরিবর্তনও এনেছিল। তবে মেটা জানিয়েছে, তারা ঘটনার বিষয়ে অবহিত হয়েছে এবং তদন্ত শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি অনুকরণ করতে অনেক সময় পরীক্ষামূলক পরিবেশে এআই মডেলগুলোকে সীমিত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার সেটআপে বিরল ধরনের একটি ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলগুলো দ্রুত আরও সক্ষম হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে সেগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নও জটিল হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নত মূল্যায়ন কাঠামো প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক