প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় তিনি সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় সেখানে উপস্থিত সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর পর সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি শুরু করেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তিনি।
দিবসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুইজন সেনা কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন। পদোন্নতি পাওয়া এই দুই সেনা কর্মকর্তা হলেন— লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী।
এই আনুষ্ঠানিক র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুই কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি। এছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলামসহ সশস্ত্র বাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর তিন বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি বাংলাদেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বিত কাঠামোর প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অফিস কার্যক্রম এবং র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠান সরকারের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী—উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের পদোন্নতি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে পেশাগত স্বীকৃতি ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতিতে এমন আনুষ্ঠানিকতা বাহিনীর মনোবল ও পেশাগত অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী করে।
সব মিলিয়ে, ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অফিস কার্যক্রম এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।