গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব ভাইরাসটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৬০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৮৭ জন মারা গেছেন। এতে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বর্তমানে ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওইসব এলাকায় চলমান সশস্ত্র সংঘাতের কারণে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দা ডেবোরাহ এনজুভা বলেন, চলমান সংঘাতের মধ্যেই মানুষ কঠিন জীবনযাপন করছিল। এর সঙ্গে ইবোলার প্রাদুর্ভাব যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে ইতুরি প্রদেশে স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে যেতে পারে।
গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোর সরকার বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) ধরনের ইবোলা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে এটি দেশটিতে এর আগে হওয়া ১৬টি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের যেকোনোটির তুলনায় দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ওই সময় দেশটিতে ৩ হাজার ৪৭০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ছিল কঙ্গোর ইতিহাসে অন্যতম বড় ইবোলা সংক্রমণ।
ডিআর কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (এনপিএইচআই)-এর ইবোলা প্রতিরোধ কর্মসূচির প্রধান অধ্যাপক পিয়েরে আকিলিমালি বলেছেন, সংক্রমণ এখনো দ্রুত বাড়ছে এবং এটি কবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, আক্রান্তদের শনাক্তে বিলম্ব এবং নিরাপত্তা সংকট ইবোলা নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে। তাই দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক