ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলার ভিওয়ান্ডি এলাকায় একটি চারতলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধারকারীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, পাওয়ারলুম শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত ভিওয়ান্ডির বালাজি নগর এলাকায় অবস্থিত ‘কোহিনুর বিল্ডিং’-এর একটি অংশ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ধসে পড়ে। ঘটনাকালে ভবনটিতে মেরামতের কাজ চলছিল।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চারতলা ভবনটিতে প্রতি তলায় ১২টি করে মোট ৪৮টি কক্ষ ছিল। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় স্থানীয় পৌরসভা এটিকে আগেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক ভবন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ভবনের ভেতরে থাকা বাসিন্দারা অস্বাভাবিক ফাটলের শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অনেক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। তবে কয়েকটি পরিবার ঘর ছেড়ে বের হওয়ার আগেই ভবনের ‘বি’ উইং সম্পূর্ণ ধসে পড়ে, ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), থানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। জীবিতদের সন্ধানে বিশেষ স্নিফার ডগ স্কোয়াড, চারটি ফায়ার ইঞ্জিন, দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং ভারী মাটি অপসারণকারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ এবং ভবনটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কসমিক ডেস্ক