ইলিশের পোনা রক্ষার জন্য মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা বন্ধ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইলিশের পোনা রক্ষার জন্য মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা বন্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 28, 2026 ইং
ইলিশের পোনা রক্ষার জন্য মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ছবির ক্যাপশন:

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে আগামী ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নদীর মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে নির্ধারিত অভয়াশ্রমগুলোতে জাল ফেলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, “প্রাকৃতিকভাবে ইলিশের পোনা বা জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং অন্যান্য মাছের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এই দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য। আমরা কড়া নজরদারি চালাব এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভোলার উপকূলীয় জেলেরা উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দীর্ঘ দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার পরিচালনা, ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং দৈনন্দিন জীবিকার জন্য তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আঃ রহিম, ইলিয়াস ও মাইনুদ্দিনের মতো ক্ষুদ্র জেলেরা উল্লেখ করেছেন, গত মৌসুমেও ইলিশের অভাবের কারণে তাদের আয় যথেষ্ট হয়নি। নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সংসারের খরচ চালানো তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনেক জেলেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল তৈরি করা হয়েছে। জেলেরা চেয়েছেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার ব্যবস্থা করা হোক। এ ছাড়াও সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল প্রকৃত জেলেদের হাতে যথাসময়ে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

মৎস্য আড়তদাররা জানিয়েছেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় স্থানীয় মৎস্যঘাট ও আড়তগুলো জনশূন্য হয়ে গেছে, যার ফলে পুরো জেলার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভোলায় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার নিবন্ধিত এবং আরও প্রায় দুই লাখ অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যাদের জীবন ও আয় এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে।

মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, ঋণের বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত চাল বিতরণ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্থানীয় সচেতন সমাজ ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলো সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের পাশে দাঁড়ানো হয় এবং তাদের জীবিকা অক্ষুণ্ণ থাকে।

প্রতিবছরই মৎস্য বিভাগ নদীর অভয়াশ্রমগুলোতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যাতে প্রাকৃতিকভাবে ইলিশ ও অন্যান্য মাছের প্রজনন নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। মৎস্যজীবীদের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে বলা হয়েছে, কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পদক্ষেপ ভোলার নদী এলাকায় মাছের প্রজনন ও ইলিশ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য কর্মকর্তারা আশা করছেন, জেলেদের সহযোগিতা এবং কড়া নজরদারির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা ভোলার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চারদিনের সরকারি সফরে বরিশাল যা

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চারদিনের সরকারি সফরে বরিশাল যা