টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনির ছাত্রাবাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে নিচের পুকুরে পড়ে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আরিফনগর এলাকার খাজা ছাত্রাবাসে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে বারান্দায় আড্ডা দিচ্ছিলেন মনির। এ সময় অসাবধানতাবশত তার হাত পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মেইন বিদ্যুৎ লাইনের তারে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
সহপাঠীরা জানান, বারান্দায় কোনো নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় বিদ্যুতের শকে ভারসাম্য হারিয়ে মনির পাশের পুকুরে পড়ে যান। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মনির আইসিটি বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ জানান, ঘটনা জানার পরপরই তিনি হাসপাতালে যান এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দিনের শোক ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ছাত্রাবাসের বারান্দায় দীর্ঘদিন ধরে রেলিং না থাকার বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দায়িত্বরত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য রাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক