মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে দেশটি সফলভাবে ‘লং মার্চ ১০বি’ (Long March 10B) রকেট উৎক্ষেপণ করেছে, যার প্রথম ধাপ নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ সাফল্যকে চীনের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার চীনের হাইনান দ্বীপ থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি (CCTV) জানায়, উৎক্ষেপণের প্রায় ছয় মিনিট পর রকেটের প্রথম ধাপ মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রে ভাসমান একটি নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অবতরণ করে।
একই অভিযানে একটি স্যাটেলাইটও সফলভাবে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে একযোগে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং রকেট পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য পূরণ করেছে চীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি মহাকাশ অভিযানের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে এবং একই রকেট একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। এতে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির সময়ও কমে যায়, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX) প্রায় এক দশক আগে এ প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করে তোলে। সেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই চীন দীর্ঘদিন ধরে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছে।
গত কয়েক মাসে চীনের কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একই ধরনের রকেট পরীক্ষা ব্যর্থ হলেও, ‘লং মার্চ ১০বি’-এর এই সফল অভিযান দেশটির মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন গতি এনে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য চীনের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ পাঠানোর যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বেইজিং গ্রহণ করেছে, সেখানে ‘লং মার্চ ১০’ সিরিজের রকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক