বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার Leandro Paredes। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে তিনি খবরের শিরোনামে। জানা গেছে, গুরুতর চোট নিয়েই তিনি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো খেলেছেন, যা ফুটবল ভক্তদের বিস্মিত করেছে।
ইএসপিএনের আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক মার্তিন আরেভালো প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, পারেদেস পাঁজরের হাড়ে চিড় এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেছেন। পরে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়, শেষ ষোলো থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত তিনি এই শারীরিক সমস্যার মধ্যেই মাঠে নামেন।
এই ধরনের চোট সাধারণত খেলোয়াড়দের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাঁজরের হাড়ে চিড় থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দৌড়ানো ও শারীরিক সংঘর্ষে ব্যথা বাড়ে। তবুও পারেদেস দলের স্বার্থে নিজের সমস্যাটি গোপন রাখেন। কারণ, প্রতিপক্ষ যদি তার দুর্বলতা জেনে যেত, তাহলে সেটিকে কাজে লাগাতে পারত।
বিশ্বকাপের শুরুতে তিনি নিয়মিত একাদশে ছিলেন না। তবে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে কোচ Lionel Scaloni তাকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সুযোগ দেন। পারেদেসও সেই আস্থার যথার্থ মূল্য দেন। চোটের মধ্যেও তার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮টি ম্যাচে মোট ৪৭৫ মিনিট খেলেছেন। তার পাসের সাফল্যের হার ছিল ৯৩ শতাংশ, যা একজন মিডফিল্ডারের জন্য অসাধারণ। এছাড়া তিনি চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন—৯টি ট্যাকলের মধ্যে ৮টিতে সফল হন, পাশাপাশি ৮টি ইন্টারসেপশন ও ১৩টি ক্লিয়ারেন্স করেন। এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, শারীরিক সমস্যার প্রভাব তার পারফরম্যান্সে তেমনভাবে পড়েনি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, পাঁজরের হাড়ে চিড় পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে বিশ্রাম ও সঠিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিশ্বকাপ শেষে তার ক্লাব Boca Juniors-এর হয়ে কয়েকটি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পারেদেসের এই ঘটনা একজন পেশাদার ফুটবলারের আত্মত্যাগ ও মানসিক দৃঢ়তার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুরুতর চোট নিয়েও দেশের হয়ে সর্বোচ্চটা দেওয়ার এই মানসিকতা তাকে ভক্তদের কাছে আরও বেশি সম্মানিত করে তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক