ইরানে টানা দশম দিনের মতো সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার রাতে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সর্বশেষ সামরিক অভিযান প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংঘাতের জেরে ইরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
চলমান সংঘাতে ইরান, লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষের প্রাণহানি এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এদিকে আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট নিহত সেনার সংখ্যা ১৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। এর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও ভবিষ্যৎ হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে চলমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জোটটির মতে, সংঘাত বৃদ্ধি পেলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর পড়বে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে আসিয়ান দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কসমিক ডেস্ক