গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের দুই ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের দুই ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 5, 2026 ইং
গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের দুই ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ ছবির ক্যাপশন:

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা—চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেড (কাফকো)—উৎপাদন স্থগিত রেখেছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল থেকে সরকারি নির্দেশনায় কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়।

ইউরিয়া উৎপাদনের মূল কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে শুধু গ্যাস থাকলেই হবে না, উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট চাপের প্রয়োজন। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ এত কমে গেছে যে, উৎপাদন চালানো কঠিন ও যন্ত্রপাতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সিইউএফএল প্রতিদিন প্রায় ১১০০–১২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারে। কাফকো প্রতিদিন ১৭২৫ টন ইউরিয়া এবং ১৫০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন সক্ষম। হিসাব করলে দেখা যায়, এই দুটি কারখানা বন্ধ থাকায় দেশের প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন ইউরিয়া সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ থাকলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হবে।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশনায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হবে। কাফকোর এক প্রকৌশলী বলেন, কম চাপে প্ল্যান্ট চালানো মানে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে।

দেশে রবি মৌসুম ও আউশ ও আমন চাষের প্রস্তুতির সময় ইউরিয়ার চাহিদা বেশি থাকে। চট্টগ্রামের কারখানাগুলো থেকে সরবরাহিত সার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে কৃষকের হাতে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ না হলে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হতে পারে এবং প্রান্তিক কৃষকদের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহকারী পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহ বাড়লে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাহিদা কমলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার কারখানায় গ্যাস দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অভাব এখন শিল্প খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, এবং তার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ অপরিহার্য। চট্টগ্রামের এই দুই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকলে জাতীয় সক্ষমতায় কুঠারাঘাত হবে।

সরকারি ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস নিশ্চিত করে কারখানা দুটি পুনরায় সচল করা হবে, না হলে দেশের সার উৎপাদন ও কৃষি খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষে ভোটের আহ্বান রহমাতুল্লাহর

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষে ভোটের আহ্বান রহমাতুল্লাহর