এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 18, 2026 ইং
এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশল ছবির ক্যাপশন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সদস্য ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশলকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কানাডা সীমান্তসংলগ্ন ভার্মন্ট এলাকায় তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন এবং বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই ও জগ্গু ভগবানপুরিয়া সংশ্লিষ্ট অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের যৌথ উদ্যোগে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে একটি বৃহৎ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন গোপন তদন্তের পর গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে তিনটি পৃথক অভিযোগপত্র জমা দেয়, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগপত্র প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপজুড়ে ৫০টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক। নীতিশ কৌশলও ওই ৩৭ অভিযুক্তের একজন।

প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিযোগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর কৌশল তদন্তকারীদের নজর এড়াতে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফেলে দেন এবং ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপনে চলে যান। তিনি অন্য একজনের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজেকে ‘লালা’ নামে পরিচয় দিচ্ছিলেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৬ জুলাই কানাডা সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে একটি পরিত্যক্ত গাড়ির সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে মার্কিন সীমান্ত টহল এজেন্টরা তাকে আটক করলে তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে আঙুলের ছাপ পরীক্ষা এবং শরীরে থাকা একটি বিশেষ সিংহের ট্যাটুর মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে তিনি স্বীকারও করেন যে ব্যবহৃত লাইসেন্সটি তার নিজের নয়।

নীতিশ কৌশল ভারতের পাঞ্জাবভিত্তিক ‘জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’-এর সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সংগঠনটি একসময় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে এবং পরে নিজস্ব আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ক তৈরি করে। তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠনটির সদস্য ও সহযোগীর সংখ্যা বিশ্বজুড়ে হাজারের বেশি এবং শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় একশ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

অভিযোগপত্রে নীতিশ কৌশলের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি মাদকের চালান চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে নীতিশ কৌশল ও তার সহযোগীরা ওই ব্যক্তিকে মারধর করে এবং পরে তাকে অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মাদকের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার কাছে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয় এবং অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, এই অপরাধচক্র যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচারের বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল এবং মার্কিন-কানাডা সীমান্ত পর্যন্ত শত কেজির বেশি মাদকের চালান পরিবহনে তারা জড়িত ছিল।

আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, নীতিশ কৌশল ২০২২ সালে অ্যারিজোনার ইউমা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনে অভিযোগ আনা হলেও শেষ পর্যন্ত একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৬০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেন। এছাড়া ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মাদক-সংক্রান্ত মামলারও উল্লেখ রয়েছে।

প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, নীতিশ কৌশলকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা হোক। তাদের যুক্তি, তিনি সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং মুক্তি পেলে পুনরায় পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
কারিগরি শিক্ষার্থীদের অবরোধে অচল তেজগাঁও সাতরাস্তা

কারিগরি শিক্ষার্থীদের অবরোধে অচল তেজগাঁও সাতরাস্তা