বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ, চট্টগ্রামের ২১২ কিমি সড়ক অগ্রাধিকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ, চট্টগ্রামের ২১২ কিমি সড়ক অগ্রাধিকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 18, 2026 ইং
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ, চট্টগ্রামের ২১২ কিমি সড়ক অগ্রাধিকার ছবির ক্যাপশন:

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, দুর্যোগের কারণে কোনো অবস্থাতেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-কে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কোথাও বন্যার তীব্র স্রোতে সড়কের অংশ ভেঙে গেছে, কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিটুমিনাস স্তর নষ্ট হয়েছে। আবার কিছু স্থানে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল এবং আমদানি-রপ্তানির কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ২১২ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে যেসব সড়ক দিয়ে খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি, ত্রাণ ও অন্যান্য জরুরি পণ্য পরিবহন করা হয়, সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, কোথাও স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে আপাতত অস্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে টেকসই ও স্থায়ী পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যেসব এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যার কারণে কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং জরুরি মেরামতের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। জরুরি সংস্কারকাজ পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রকল্পে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই হবে না, একই স্থানে যাতে বারবার ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। কোথাও সড়ক বা সেতুর ক্ষতি চোখে পড়লে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২ এপ্রিল

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২ এপ্রিল