সুদানে চলমান সংঘাতে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, চলতি মাসের প্রথমার্ধে পরিচালিত অভিযানে আরএসএফের ২০৫টি যুদ্ধযান, ১৭টি সামরিক সরঞ্জামবাহী ট্রাক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪টি ড্রোন ভূপাতিত এবং ২১টি যুদ্ধযান জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র বাহিনী দেশের বিভিন্ন ফ্রন্টে আরএসএফের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিবৃতিতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যের কুরমুক শহর পুনর্দখলের দাবিও করা হয়।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৫ জুলাই পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সামরিক অভিযান চালানো হয়। এতে আরএসএফের বিপুলসংখ্যক যুদ্ধযান ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দারফুর অঞ্চলে ৭৬টি যুদ্ধযান ও ১৭টি সামরিক ট্রাক ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কর্দোফান এলাকায় ১৯টি যুদ্ধযান ধ্বংস এবং বহু আরএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে উত্তর কর্দোফান অঞ্চলে ৫৪টি যুদ্ধযান ধ্বংস, ৩টি ড্রোন ভূপাতিত এবং বহু আরএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হোয়াইট নাইল অঙ্গরাজ্যে আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে।
তবে সেনাবাহিনীর এসব দাবির বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের কারণে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে উভয় পক্ষই নিজেদের সাফল্যের দাবি করলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
কসমিক ডেস্ক