মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের বাসিন্দা রেহানা বেগম ১০ বছরমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা জমা করেছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায় এক দশক কেটে গেছে। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকাও হাতে পাননি তিনি।
রেহানা বেগম একা নন। গ্রামের অন্তত ৫০ জন নারী একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স–এর বিভিন্ন মেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা জমা দিয়েও তারা এখনো অর্থ ফেরত পাননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ২০ বছর আগে কোম্পানির প্রতিনিধিরা গ্রামে এসে মূলত অশিক্ষিত ও নিম্নআয়ের নারীদের সঞ্চয় প্রকল্পে যুক্ত করেন। এ কাজে গ্রামের অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত ও প্রভাবশালীদের ব্যবহার করা হয়।
বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের বাদল হোসেন নিজেকে কোম্পানির ব্লক ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনিই নারীদের মাসিক সঞ্চয় জমা দিতে উদ্বুদ্ধ করতেন।
রেহানা বেগম জানান, তিনি মাসে ২০০ টাকা করে ১০ বছর জমা দিয়েছেন। মাঠে শ্রমিকের কাজ করে, কখনো হাঁস-মুরগি বিক্রি করে কষ্টে এই টাকা জোগাড় করতেন।
মেয়াদ শেষে তাঁকে মানিকগঞ্জ শহরের অফিসে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং দুই দিনের মধ্যে চেক দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর প্রায় ১০ বছর পার হলেও তিনি কোনো টাকা পাননি।
তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে বাদল সময় চাইতেন। এখন তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে অফিসে যোগাযোগ করতে বলছেন।
লাভলি বেগমসহ নারগিস আরা, খাতুমন, করিমন, ফজিরন—সবার গল্প প্রায় একই। তারা প্রত্যেকে মাসে ২০০ টাকা করে জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
তাদের সন্দেহ, স্থানীয় ব্যবস্থাপকই টাকা তুলে নিয়ে এখন অস্বীকার করছেন। তবে বাদল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো টাকা তোলেননি এবং কোম্পানির কাছেও তার পাওনা রয়েছে। তিনি ভুক্তভোগীদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বাদল হোসেনের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী মানিকগঞ্জ শহরের হক নাহার প্লাজা ভবনের দোতলায় কোম্পানির অফিসে গিয়ে টানা তিন দিন তালা ঝুলতে দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, মাঝে মাঝে একজন কর্মচারী এলেও সাধারণত অফিস বন্ধই থাকে।
এ অবস্থায় গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন—তাদের কষ্টের সঞ্চয় কি আর ফেরত মিলবে? অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের এসব নারীর।a
কসমিক ডেস্ক