বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভস ঘিরে থাকে আলাদা উত্তেজনা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ সেভ, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে রক্ষা করার সক্ষমতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের বিজয়ী।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও গোল্ডেন গ্লাভসের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন এবং আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। যদিও পরিসংখ্যানের বিচারে আপাতত অনেকটাই এগিয়ে আছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেন ফাইনালে ওঠার পর উনাই সিমনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। পাশাপাশি ছয়টি ক্লিন শিট রেখে বিশ্বকাপের এক আসরে গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। স্পেনও এক বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছয়টি ক্লিন শিটের কীর্তি স্পর্শ করেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল হজমের আগে উনাই সিমন টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খেয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক নজির গড়েন। তার এই অসাধারণ ধারাবাহিকতাই তাকে গোল্ডেন গ্লাভসের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে, ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবারও দুর্দান্ত কিছু সেভ করেছেন। তবে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা একাধিক গোল হজম করায় পরিসংখ্যানে তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ বেশ চাপের মুখে ছিল।
তবে মার্তিনেজের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল এবং সম্ভাব্য ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরতে পারেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসও তার পক্ষেই কথা বলে। গত পাঁচটি আসরের চারবারই চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন।
গোল্ডেন গ্লাভস ট্রফিটি দেখতে সোনালি গ্লাভসের মতো হলেও এটি খাঁটি সোনার তৈরি নয়। সাধারণত পিতল বা তামার ওপর সোনালি প্রলেপ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। বাণিজ্যিক মূল্য সীমিত হলেও ফুটবল ইতিহাসে এই পুরস্কারের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে গোল্ডেন গ্লাভসের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেরা গোলরক্ষকের সম্মান কার হাতে উঠবে।
কসমিক ডেস্ক