প্রশান্ত মহাসাগরে ডামি ওয়ারহেড বহনকারী একটি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর চীনের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৬ জুলাই) পরিচালিত এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) পরীক্ষার পর এটি চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রদর্শনী। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে বেইজিং তাদের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত আঘাত হানার সম্ভাব্য ক্ষমতার বার্তা দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ব যখন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করছে, তখন চীনের দ্রুত এবং অস্বচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতার দ্রুত সম্প্রসারণ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই চীনকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালানো হলেও বেইজিং তাতে সম্মত হয়নি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সলোমন দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে পড়ে। এতে চীনের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
‘এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর সিনিয়র ফেলো লায়েল মরিস বলেন, এই পরীক্ষা চীনের নৌবাহিনীর সক্ষমতায় বড় ধরনের অগ্রগতি নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে বেইজিং নিজেদের উপকূলীয় ঘাঁটি থেকেই দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত হামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দিনই অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, চীনের এ ধরনের সামরিক কার্যক্রম ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপানও।
অন্যদিকে রাশিয়া চীনের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, এটি বেইজিংয়ের সার্বভৌম অধিকার এবং এতে অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকির কিছু নেই।
চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ। তার দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল এবং পরীক্ষাটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক