পূর্ব সুন্দরবনে ফাঁদসহ ৪ শিকারি আটক, আড়াই মণ কাকড়া জব্দ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পূর্ব সুন্দরবনে ফাঁদসহ ৪ শিকারি আটক, আড়াই মণ কাকড়া জব্দ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 4, 2026 ইং
পূর্ব সুন্দরবনে ফাঁদসহ ৪ শিকারি আটক, আড়াই মণ কাকড়া জব্দ ছবির ক্যাপশন:

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে চারজন শিকারিকে আটক করেছে বন বিভাগ। অভিযানের সময় তাদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, হরিণ ধরার ফাঁদ, বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার নিষিদ্ধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বন কর্মকর্তাদের দাবি, মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদ আহরণে চলমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বন্যপ্রাণী শিকার এবং কাঁকড়া আহরণের চেষ্টা করছিল।

শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের মৃগামারী খালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে দুপুরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চারজনকে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চিলা গ্রামের ফরিদ হাওলাদার (৫৫), আতাউর খান (৫৬), মোজাম জোমাদ্দার (৩৩) এবং রুহুল জোমাদ্দার (৩৫)। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক বন মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপাই ফরেস্ট স্টেশন এবং আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনরক্ষীরা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। দীর্ঘ নজরদারির পর ভোররাতে মৃগামারী খালে সন্দেহজনক একটি নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

তল্লাশির সময় নৌকা থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ হরিণ ধরার মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সাতটি ঝুড়িতে সংরক্ষিত প্রায় আড়াই মণ কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার জন্য ব্যবহৃত ৫০টি নিষিদ্ধ চারুসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদের ওপর অবৈধ কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ ধরা ও জলজ সম্পদ আহরণের ওপর তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এই সময়ে বনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে কোনো ধরনের আহরণ বা শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বনাঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আটক ফরিদ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের নজরদারিতে থাকা একজন পরিচিত হরিণ শিকারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক বন মামলা চলমান রয়েছে। এর আগে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েও তিনি আবার অবৈধ শিকারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে বন বিভাগের কাছে তথ্য রয়েছে।

বন কর্মকর্তা জানান, আটক চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম ভাণ্ডারই নয়, এটি বহু বিরল ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। তাই বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী শিকার প্রতিরোধ করা যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে অবৈধ প্রবেশ, বন্যপ্রাণী শিকার কিংবা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বননির্ভর এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত রাখার আবেদন এনসিপির নেতার

মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত রাখার আবেদন এনসিপির নেতার