মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফায় হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌঘাঁটি এবং সামরিক রসদ সংরক্ষণাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগের রাতের সফল সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় নতুন এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর সম্ভাব্য হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত মধ্য জুনে যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আবারও বেড়েছে।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। সে সময় সেন্টকম জানায়, ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)-এর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এসব হামলার পাল্টা জবাব অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।
কসমিক ডেস্ক