পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মিরে ৩৮ দফা দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন টানা ২৬ দিনে পৌঁছেছে। আন্দোলনের কারণে অঞ্চলটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উচ্চ দ্রব্যমূল্য, খাদ্যপণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি এবং সরকারি বৈষম্যের অবসানসহ ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করছে বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। সংগঠনটি দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া সরকারি আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় নতুন করে আন্দোলন জোরদার করা হয়েছে।
সরকার আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে কারফিউ, নিরাপত্তা অভিযান এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং ও এটিএম সেবাও ব্যাহত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাট, বাজার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পরিবহন ধর্মঘট, লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরেও আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা কাশ্মিরের বাইরে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। সরকার কিছু দাবিতে ইতিবাচক অবস্থান নিলেও এই বিষয়ে এখনো অনড় রয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী কাশ্মিরিরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা, নিরাপত্তা উত্তেজনা এবং মানবিক সংকটের কারণে পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মিরের পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
কসমিক ডেস্ক