ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুন আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১২ হাজার ৪০০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, যা উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস জানান, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৮৬২টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এসব আফটারশকের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার এমপি হোর্হে রদ্রিগেস জানান, এই দুর্যোগে অন্তত ২৬ হাজার ৪০৩ জন বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার অনেকের বাসস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হাজারো পরিবার এখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং কিছু এলাকায় পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে।
তবুও মাঝে মাঝে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও আশা জাগাচ্ছে। একটি ধসে পড়া শপিং মলের নিচে আটকা পড়া দুই সন্তানের এক বাবাকে দীর্ঘ ১২০ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, স্ট্রেচারে করে তাকে বাইরে আনার সময় উপস্থিত মানুষ করতালির মাধ্যমে উদ্ধারকারীদের অভিনন্দন জানান।
এর আগে ভূমিকম্পের দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দাইয়ানা পতিনিও এবং তার মাত্র ১৮ দিন বয়সী ছেলে হুয়ান ডেভিডকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন। পরে দাইয়ানা জানান, উদ্ধারকারীরা একটি প্লাস্টিকের নলের মাধ্যমে শিশুটির কাছে পানি পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা তাদের বেঁচে থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, এখনো নিখোঁজ থাকা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি অনেক স্থানে খালি হাতেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেঁচে যাওয়া মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ হাজারো মানুষের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এবং মানবিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি আশ্রয় নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক