হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্ধারিত সামুদ্রিক রুট অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের জবাব দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই কৌশলগত নৌপথে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়, বরং এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চল। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’, যেখানে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী **আব্বাস আরাগচি**ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের জনগণ কিংবা দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেবে।
আরাগচির এই প্রতিক্রিয়া আসে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। কাটজ দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এর জবাবে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য এ নৌপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি বিশ্ববাজার, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কসমিক ডেস্ক