অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ক গল্পভিত্তিক একটি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের লেখা এই বইটির নাম ‘বুদ্ধি ২.০’। বইটি প্রকাশ করেছে আদর্শ প্রকাশনী।
বইমেলায় আগ্রহী পাঠকেরা আদর্শ প্রকাশনীর ৭৭২ থেকে ৭৭৬ নম্বর স্টলে বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রকমারি থেকেও বইটি কেনার সুযোগ রয়েছে। বইটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯৬ এবং বিশেষ ছাড়ে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬০ টাকা।
লেখক জানান, ‘বুদ্ধি ২.০’ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে লেখা একটি গল্পভিত্তিক কল্পগল্প। এতে কম্পিউটার বিজ্ঞানে আগ্রহী এক গবেষকের অনুসন্ধান ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি এবং মানবিকতার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘এডিএ’ নামের একটি আত্মসচেতন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই এআই সত্তা নিজেকে নিয়ে প্রশ্ন তোলে—“আমি কে?” গল্পে দেখা যায়, আরিব নামের এক গবেষকের সঙ্গে এডিএর সম্পর্কের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি, মানবিক অনুভূতি এবং অস্তিত্বের নানা দার্শনিক প্রশ্ন উঠে আসে।
গল্পে মানুষের সঙ্গে কৃত্রিম সত্তার সম্পর্ক ও সহাবস্থানের ধারণাও তুলে ধরা হয়েছে। এই সম্পর্কের সেতুবন্ধনকারী হিসেবে গল্পে রয়েছে মেহরীমাহ নামের একটি চরিত্র, যিনি মানুষের আবেগ, কৃত্রিম চেতনা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে একসঙ্গে ধারণ করেন।
বইটির মোট ১২টি পর্বে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে আত্মসচেতন হয়ে ওঠে এবং কীভাবে ভালোবাসা, অস্তিত্ব ও মানবিকতার মতো জটিল বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও মানবিকতার সম্পর্ক নিয়ে পাঠকদের ভাবতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বুদ্ধি ২.০’ বইটি বিজ্ঞান, কল্পনা এবং মানবিক অনুভূতির একটি সমন্বিত উপস্থাপন। তার মতে, এই বই শুধু প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য দেবে না, বরং পাঠকের মধ্যে নতুন ধরনের অনুভূতি ও চিন্তারও জন্ম দেবে।
তিনি আরও বলেন, যারা মনে করেন ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেবল প্রযুক্তিনির্ভর হবে না, বরং মানুষ ও প্রযুক্তির সহযোগিতার মাধ্যমে গড়ে উঠবে—তাদের জন্য এই বইটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই আলোচনা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং নৈতিক এবং দার্শনিক প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত। এআই কি মানুষের সহকারী হবে, নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে—এমন নানা প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে।
‘বুদ্ধি ২.০’ বইটিতে এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি পাঠকদের নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে লেখক জানিয়েছেন। গল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ককে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
লেখকের মতে, বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাধারণ পাঠকের জন্য গল্পভিত্তিক বই এখনো তুলনামূলকভাবে কম। সেই জায়গায় ‘বুদ্ধি ২.০’ একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহী পাঠক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং তরুণদের জন্য এই বইটি নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণায়ও যুক্ত রয়েছেন।
এর আগে তিনি ‘কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের গল্প’ নামে একটি নন-ফিকশন বই এবং আরও তিনটি একাডেমিক বই রচনা করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে তার আগ্রহ ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই এই সায়েন্স ফিকশন বই ‘বুদ্ধি ২.০’ লেখা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক