ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা, আসামি ২০৩ জন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা, আসামি ২০৩ জন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 28, 2026 ইং
ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা, আসামি ২০৩ জন ছবির ক্যাপশন:

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ-এ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে, যেখানে মোট ২০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পরপরই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি প্রায় ১৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার শুরু হয় গত ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালে কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ছাত্রদলের অন্তত ৮ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে জানা যায়।

ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলার বাদী বুরহান আলী, যিনি পাবনা জেলা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ২৩ এপ্রিলই আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ঈশ্বরদী উপজেলা ও কলেজ ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতাকে আসামি করা হয়েছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান আসাদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ছাত্রদল পক্ষের অভিযোগ, থানার আশ্বাসে তারা একদিন আন্দোলন স্থগিত করলেও পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবির পক্ষ বলছে, তারা ঘটনার পরপরই লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রথমে মামলা গ্রহণ করা হয়নি, পরে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছাত্র রাজনীতির এই ধরনের সংঘর্ষ শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের এই সংঘর্ষ শুধু দুই সংগঠনের মধ্যে নয়, বরং পুরো এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের