দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। দিদিয়ে দেশম দায়িত্ব ছাড়ার পর কিংবদন্তি এই সাবেক ফুটবলারের হাতেই জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো আনুষ্ঠানিকভাবে জিদানের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে জিদান নিজেও দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী ছিলেন।
২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে কোনো ক্লাব বা জাতীয় দলের কোচিংয়ে ফেরেননি ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ। তবে কোচ হিসেবে তার সাফল্য বিশ্ব ফুটবলে অনন্য। রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনবার (২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮) উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর বিরল কৃতিত্ব রয়েছে তার, যা আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে এখনো অনন্য।
অন্যদিকে, দিদিয়ে দেশম ২০১২ সাল থেকে টানা এক যুগেরও বেশি সময় ফ্রান্সের দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। এছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালেও খেলেছিল দলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
জিদান এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ লরেন ব্লাঙ্ক এবং দিদিয়ে দেশমের পথ অনুসরণ করে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিলেন।
খেলোয়াড় হিসেবে জিদানের অবদান ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতান তিনি। এরপর ২০০০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পেছনেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একই বছর তিনি জেতেন ব্যালন ডি’অর।
ফ্রান্সের জার্সিতে ১০৮ ম্যাচে ৩১ গোল করা এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে তার বিখ্যাত প্যানেনকা পেনাল্টি এবং পরে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার ঘটনার জন্যও ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
ফ্রান্সের নতুন কোচ হিসেবে জিদানের প্রথম পরীক্ষা শুরু হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। নেশন্স লিগে ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার কোচিং অধ্যায়ের সূচনা হবে। এরপর বেলজিয়াম এবং ইতালির বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে ফরাসিরা।
কসমিক ডেস্ক