বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দীর্ঘদিন ধরে তার পদত্যাগ ও আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেন, তিনি পদত্যাগ করার কোনো চিন্তাই করেননি এবং ভবিষ্যতেও অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
তিনি আরও বলেন, গঠনতন্ত্র যা অনুমোদন দেবে, তিনি সেটিই অনুসরণ করবেন। তার ভাষায়, “অ্যাডহক কমিটি থেকে পদত্যাগ করার কথা আমি কখনোই ভাবিনি।”
এর আগে কয়েক দিন ধরে ক্রীড়া মহলে গুঞ্জন ছিল যে, তামিম ইকবাল নাকি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ ছেড়ে দিতে পারেন। তবে তিনি সেই ধারণা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন।
তামিম ইকবাল জানান, আগামী জুনের মধ্যে বিসিবির নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। আগামী রবিবার (৩ মে) বোর্ড সভায় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন যেন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়, সেটাই তার মূল লক্ষ্য। তার মতে, বিসিবির বর্তমান কাঠামোর অধীনে একটি “ফেয়ার ইলেকশন” আয়োজন সম্ভব।
গত ৭ এপ্রিল সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দিয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় ১১ জন সদস্যকে, যার সভাপতির দায়িত্ব পান তামিম ইকবাল।
এই অ্যাডহক কমিটির প্রধান দায়িত্ব হলো ৯০ দিনের মধ্যে বিসিবির নির্বাচন আয়োজন করা, অর্থাৎ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, তামিম ইকবালের এই অবস্থান বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। কারণ, দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে তার উপস্থিতি এবং নেতৃত্ব নিয়ে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
তামিম ইকবাল দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার হিসেবে খেলেছেন এবং দেশের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক ভূমিকায় যুক্ত হন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবি নির্বাচনকে ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে তামিম ইকবালের এই ঘোষণা নির্বাচনের আগে বিসিবির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং তার নেতৃত্বে নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, তা এখন দেখার বিষয়।
কসমিক ডেস্ক