দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ অনুযায়ী, বৃত্তির মাসিক অর্থ এবং এককালীন বার্ষিক অনুদান—দুটিই দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১০ বছর পর এই হার পুনঃনির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৃত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান বাজারমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে মেধাবৃত্তির হার মাসিক ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করা হবে। একইভাবে জুনিয়র (জেএসসি) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
মাধ্যমিক (এসএসসি) স্তরে মেধাবৃত্তি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করা হবে। উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৭৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে স্নাতক পর্যায়ে (সম্মান) মেধাবৃত্তি ১,১২৫ টাকা থেকে ২,২৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করা হবে। স্নাতক (পাস) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ১,০৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,১০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৭৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুধু মাসিক বৃত্তিই নয়, এককালীন বার্ষিক অনুদানের পরিমাণও দ্বিগুণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে এই অনুদান ২২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করা হবে। জুনিয়র স্তরে মেধাবৃত্তির অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে ১,১২০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করা হবে।
এসএসসি পর্যায়ে মেধাবৃত্তির বার্ষিক অনুদান ৯০০ টাকা থেকে ১,৮০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করা হবে। একইভাবে এইচএসসি স্তরে মেধাবৃত্তির অনুদান ১,৮০০ টাকা থেকে ৩,৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির জন্য ৭৫০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়াবে। তবে এটি অর্থ বিভাগের বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
বর্তমানে দেশে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে। সরকার ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাখাতে ঝরে পড়ার হার কমবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক এবং পেশামূলক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই বর্ধিত বৃত্তির হার কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ইতোমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের পর অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলেই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।