বাংলাদেশ হকির ইতিহাসে যোগ হলো নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো হকি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অনূর্ধ্ব–২১ দল অভিষেকেই এনে দিল এক বিরল অর্জন। ভারতের ভুবনেশ্বরে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জার কাপ পর্বে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপীয় শক্তিশালী দল অস্ট্রিয়ার। উত্তেজনায় ভরা দারুণ এক ম্যাচে লাল–সবুজের যুব হকিরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে ৫–৪ গোলে জয় তুলে নেয় এবং চ্যালেঞ্জার ট্রফি নিজেদের করে নেয়।
২৪ দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৭তম স্থান নিশ্চিত করেছে—যা হকি বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কম থাকা সত্ত্বেও পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে স্বচ্ছন্দ আক্রমণভঙ্গি, বল কন্ট্রোল এবং মানসিক দৃঢ়তায় যুবারা দেখিয়েছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
বাংলাদেশ হকি বহুদিন ধরেই অবকাঠামো, প্রতিযোগিতামূলক লিগ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভাবে পিছিয়ে ছিল। তবুও যুব দলের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে—নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক প্রস্তুতি এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টে বিনিয়োগ ফল এনে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনকে সামনে রেখে হকি উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনা, তৃণমূল প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার লিগ কাঠামোর দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।
চ্যালেঞ্জার ট্রফি শুধু একটি শিরোপা নয়—এটি বাংলাদেশের হকি সম্ভাবনার নতুন দরজা। অনূর্ধ্ব–২১ দলের এই সাফল্য ভবিষ্যতের জাতীয় দলে যোগ করতে পারে নতুন শক্তি ও নতুন আত্মবিশ্বাস।
বাংলাদেশের হকিতে এটি এক নতুন সূচনা—যেখানে পরিশ্রম, প্রতিশ্রুতি ও প্রতিভার মিশেলে তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের আন্তর্জাতিক মানের দল।
কসমিক ডেস্ক