সময়কে ২১ বছর পেছনে টেনে নিলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের এক অনন্য দিন। ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাস, তারিখ ১০। চট্টগ্রাম টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ তুলে নেয় তাদের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম জয়।
২২৬ রানের ব্যবধানে পাওয়া সেই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার চার বছর পর, নিজেদের ৩৫তম ম্যাচে এসে লাল বলের ক্রিকেটে প্রথমবার বিজয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রধান নায়ক ছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪৫ রান খরচ করে ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৫৪ রানে গুটিয়ে দেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পান এনামুল।
ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তৎকালীন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। প্রথম ইনিংসে ৯৪ রান করে দলের ভিত গড়ে দেন তিনি। সেই ইনিংসে মোহাম্মদ রফিকের ৬৯ রান এবং পাঁচ উইকেট বাংলাদেশের বড় লিড নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। দুইজনের পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১৭৬ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ছিলেন হাবিবুল বাশার। তার ৫৫ রানের ইনিংস জয়ের পথ আরও সুগম করে। এরপর এনামুল হক জুনিয়রের ঘূর্ণির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং লাইনআপ।
এই জয়ের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয় টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় আরও চার বছর—ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আসে সেই সাফল্য।
চট্টগ্রামের সেই জানুয়ারির দিনটি আজও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য এক স্মারক হয়ে আছে।