পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি, বইছে শৈত্যপ্রবাহ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি, বইছে শৈত্যপ্রবাহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি, বইছে শৈত্যপ্রবাহ ছবির ক্যাপশন:
ad728

হিমালয়ের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসে কাঁপছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রার বিচারে এলাকায় বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় এখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় তেঁতুলিয়ায় শীতের তীব্রতা সাধারণত বেশি অনুভূত হয় এবং সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, সারাদিনই উত্তরের হিমেল বাতাস বইতে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। সকালে কুয়াশা থাকলেও ৯টার পর সূর্যের দেখা মিলছে, তবে তাতে শীতের প্রকোপ খুব একটা কমছে না।

বরফঝরা ঠান্ডা উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষদের। হিম সকালে পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের কাজে যেতে দেখা গেছে। মহানন্দা ও ডাহুক নদীতে পাথর উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকরা বরফঠান্ডা পানির মধ্যেই নেমে পড়ছেন কাজে।

পাথর শ্রমিক ইরফান, আজগর ও মোতালেব বলেন, “নদীর পানি বরফের মতো ঠান্ডা। কিন্তু পাথর তোলা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। পেটের দায়েই বরফ জলে নেমে কাজ করতে হচ্ছে।”

একইভাবে চা শ্রমিক সাইফুল ও জামাল জানান, ভোরের প্রচণ্ড শীতে চা বাগানে কাজ করতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তবু জীবিকার তাগিদে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতেও গত কয়েক দিন ধরে শীতের মাত্রা বাড়ছে। রাত ও সকালে ঘন কুয়াশা পড়ছে। বুধবার থেকে শীতের তীব্রতা হঠাৎ করে বেড়ে যায় এবং বিকেলের দিকে ঠান্ডা আরও অনুভূত হয়। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ গরম কাপড় ব্যবহার শুরু করলেও প্রয়োজনের তুলনায় শীতবস্ত্র বিতরণ এখনও খুবই সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে শীতের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত রোগ। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আপাতত তেঁতুলিয়ায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচার, বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচার, বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ