মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের দিঘিরপাড় বাজার ও কামারখাড়া বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে দিঘিরপাড় বাজার থেকে বিএনপি নেতা শামিম মোল্লার সমর্থকরা মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদের পক্ষে একটি মিছিল নিয়ে কামারখাড়া এলাকার দিকে অগ্রসর হন। এ সময় একই দলের অপর পক্ষ, দিঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার খানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর জেরে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় খান ও মোল্লা বংশের বিএনপি সমর্থক দুই পক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে দিঘিরপাড় ও কামারখাড়া বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যান।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দিঘিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার মিছিলকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে সংঘর্ষে আহতদের নাম-পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক বাবলু বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। কোনো পক্ষই যেন সহিংসতায় জড়াতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসায় ভোটের মাঠে উত্তেজনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো না গেলে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
কসমিক ডেস্ক