প্রতিশ্রুতি দিয়েও কালভার্ট বানায়নি ঠিকাদার, দুর্ঘটনার শঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রতিশ্রুতি দিয়েও কালভার্ট বানায়নি ঠিকাদার, দুর্ঘটনার শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
প্রতিশ্রুতি দিয়েও কালভার্ট বানায়নি ঠিকাদার, দুর্ঘটনার শঙ্কা ছবির ক্যাপশন:
ad728

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৯টি পরিবার দেড় বছর ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। খাল খননের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ভেঙে ফেলার পর তা পুনর্নির্মাণ না করায় প্রকল্পে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে সরকারি অর্থায়নে মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার কলাকান্দা ও পালালোকদি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ১৯টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব ঘরে বর্তমানে ১৯টি পরিবার বসবাস করছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি গজরা ইউনিয়নের ডুবগী গ্রামের দিকে, যেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি খাল পার হতে হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খালের ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে খাল খননের সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কালভার্টটি ভেঙে ফেলে। খনন শেষে নতুন কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাল পারাপারের জন্য লম্বালম্বিভাবে একটি তালগাছ ফেলে রাখা হয়েছে। সেটির ওপর দিয়েই নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। পাশেই পড়ে আছে ভাঙা কালভার্টের ধ্বংসাবশেষ।

প্রকল্পের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন খান জানান, কালভার্ট ভাঙার পর থেকে তাদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাঁর স্ত্রী সেফালী বেগম খাল পার হতে গিয়ে পড়ে পা ভেঙে ফেলেন। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। তিনিও নিজে একাধিকবার পড়ে আহত হয়েছেন।

আকলিমা বেগম বলেন, ছোট শিশুদের নিয়ে খাল পার হওয়া ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। একবার একটি শিশু পানিতে পড়ে গিয়েছিল। তিনিও নিজে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পান। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, খাল পার হতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার পর এখনো তার শারীরিক সমস্যা রয়ে গেছে। দ্রুত একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাসিন্দারা জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

খাল খননকাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি জানান, এটি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বেকার ভাতা নয়, প্রত্যেক যুবকের হাতে কাজ তুলে দেওয়াই লক্ষ্য:

বেকার ভাতা নয়, প্রত্যেক যুবকের হাতে কাজ তুলে দেওয়াই লক্ষ্য: