চট্টগ্রাম ওয়াসা (চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ) আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকের জন্য পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গ্রাহক, সাংবাদিক ও অংশীজনের মতামত নিয়ে সুপারিশ দিতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, শনিবার (১ আগস্ট) পরিচালনা পর্ষদের সভায় সংস্থাটির বাণিজ্যিক ও রাজস্ব বিভাগ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রস্তাবে বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রচলিত আইনে বছরে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ থাকায় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, বোর্ড সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গঠিত কমিটি গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে একটি সুপারিশ তৈরি করবে। পরে সেই সুপারিশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৩৭ টাকা। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট গ্রাহক সংযোগ রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫১৯টি।
এদিকে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনিক অদক্ষতা, অপচয় ও অনিয়ম দূর করা গেলে পানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। পাশাপাশি এখনও চট্টগ্রামের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত ওয়াসার পানি পৌঁছায় না বলে অভিযোগ করেছে তারা।
ক্যাব নেতারা বলেন, সেবার মান ও পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে নতুন করে মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। তাই পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
কসমিক ডেস্ক