দুই মাস পর ইলিশ শিকারে ফিরছেন চাঁদপুরের জেলেরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দুই মাস পর ইলিশ শিকারে ফিরছেন চাঁদপুরের জেলেরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 30, 2026 ইং
দুই মাস পর ইলিশ শিকারে ফিরছেন চাঁদপুরের জেলেরা ছবির ক্যাপশন:

জাটকা সংরক্ষণে সরকারের দেওয়া দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নতুন আশায় বুক বাঁধছেন চাঁদপুর জেলার জেলেরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলে আবারও মাছ ধরতে নামবেন পদ্মা নদীমেঘনা নদী-সহ আশপাশের নদ-নদীতে। ফলে জেলে পাড়াগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য ও নতুন প্রত্যাশা।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। এই সময়ে জাটকা বা ইলিশের ছোট পোনা সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়। দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞা শেষে এখন জেলেরা নতুন উদ্যমে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন জেলে পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জেলে তাদের জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকা ঠিকঠাক করছেন, আবার কেউ নদীতে নামানোর শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কোথাও কোথাও মিস্ত্রিদের নৌকা মেরামতের কাজ করতে দেখা গেছে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা আর্থিকভাবে বেশ চাপে ছিলেন। আনন্দ বাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে দুই মাস মাছ ধরেননি, কিন্তু এই সময়ে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হয়েছে। এখন আবার নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ভালো ইলিশ পাওয়ার আশায়।

একইভাবে বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম জানান, নৌকা ও জাল মেরামতের জন্য তাকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। তার আশা, ইলিশ ভালো পাওয়া গেলে ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে এবং পরিবারের খরচও মেটানো যাবে।

আরেক জেলে ফারুক গাজী বলেন, তার নৌকায় সাতজন কাজ করেন। ইলিশ না পেলে তাদের সবার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও জানান, সরকার থেকে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে পুরো সময়ের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে মৎস্য বিভাগ বলছে, এ বছরের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জাটকা ধরার অপরাধে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়েছে। এর ফলে জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। চার মাসে মোট ১৬০ কেজি করে বিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এ বছর প্রথমবারের মতো জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের অতিরিক্ত খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

তবে জেলেদের দাবি, এই সহায়তা তাদের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তারা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প কর্মসংস্থান ও আরও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন তাদের চোখ নদীর দিকে—ভালো ইলিশ ধরা পড়লে ঘুরে দাঁড়াবে তাদের জীবন-জীবিকা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
টঙ্গীর বস্তি এলাকায় রাতভর অভিযানে আটক ৩৫ জন

টঙ্গীর বস্তি এলাকায় রাতভর অভিযানে আটক ৩৫ জন