চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ডিএপি সার মজুদের অভিযোগ, ৫ হাজার টাকা জরিমানা" অসন্তোষ কৃষক
ফারুক হোসেন ডন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর বাজারে অবৈধভাবে ডিএপি সার মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে এক সার ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে অভিযানের আগে বিপুল পরিমাণ সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—স্থানীয়দের এমন অভিযোগে অভিযানটি নিয়ে কৃষক ও সচেতন মহলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত নেজামপুর বাজারের মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দাসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দোকানের গোডাউনে ডিএপি সার মজুদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ আলীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসনকে ওই ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ১৫০ বস্তা ডিএপি সার মজুদের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান না চালিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময়ের মধ্যে ছয়টি ভ্যানে করে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ বস্তা সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
পরে প্রশাসনের অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে ৬৪/৬৫ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের একাংশের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুদের অভিযোগের পর মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সার মজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও কৃষকদের ভোগান্তি তৈরি হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, ‘কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সার যদি কেউ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন, তাহলে শুধু নামমাত্র জরিমানা করলে এর কোনো কার্যকর প্রভাব পড়বে না। প্রশাসনের উচিত ছিল অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা।’
এদিকে অভিযানে বিলম্ব এবং অভিযানের সময়ের মধ্যে সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো কোনো পর্যায়ের ব্যক্তির যোগসাজশ বা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে কি না—এমন সন্দেহের কথাও কেউ কেউ বলছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সার মজুদ করা হয়েছিল, অভিযানের আগে কোনো সার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির ঘটনা ঘটেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হোক।
তাদের মতে, কৃষি উপকরণের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যথায় অবৈধ মজুদ ও সার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
তবে অভিযানের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনটিতে সংযুক্ত করা হবে।
ফারুক হোসেন ডন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি