জিলহজ মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনকে বলা হয় ‘আইয়ামে তাশরিক’, যা জিলহজের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এ দিনগুলোতে বেশি বেশি তাঁর জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসেও উল্লেখ আছে, এই দিনগুলো হলো পানাহার ও আল্লাহর স্মরণের সময়।
জিলহজ মাসের শুরু থেকেই বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নত। বিশেষ করে প্রথম দশ দিনে সাহাবায়ে কেরাম প্রচুর পরিমাণে আল্লাহর জিকির করতেন। বাজার, রাস্তা—সব জায়গায় তাকবিরের ধ্বনি শোনা যেত।
তবে নির্দিষ্টভাবে তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব হয় জিলহজের ৯ তারিখ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর নামাজ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর অন্তত একবার উচ্চস্বরে তাকবির পড়া আবশ্যক।
অর্থাৎ, প্রতি ফরজ নামাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাকবিরে তাশরিক পড়তে হবে। যদি কেউ ভুলে যায়, তাহলে স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়ে নিতে হবে।
প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলমানের ওপর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। এতে নারী-পুরুষ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
- মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানকারী)
- মুসাফির (ভ্রমণরত ব্যক্তি)
- পুরুষ ও নারী—সবাই
তবে নারীরা এটি অনুচ্চ স্বরে পড়বেন।
ফিকহি মতানুসারে, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে একাকী নামাজ আদায়কারী, মুসাফির ও নারীদের ওপর এটি ওয়াজিব নয়। কিন্তু তার দুই শিষ্য (সাহেবাইন)—ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই দ্বিতীয় মতটিই গ্রহণযোগ্য।
শুধুমাত্র ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
- সুন্নত নামাজের পর নয়
- নফল নামাজের পর নয়
- বিতর নামাজের পরও নয়
তাই প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে নিয়মিত তাকবির পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবির বলতে বলতে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। সাহাবায়ে কেরাম এ আমল নিয়মিত করতেন এবং তাদের দেখে অন্যরাও এতে অংশ নিতেন।
তাকবিরে তাশরিক শুধুমাত্র একটি দোয়া নয়; এটি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও একত্বের ঘোষণা। মুসলমানদের জীবনে আল্লাহকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার একটি প্রতীকী প্রকাশও এটি।
এই আমল নিয়মিত পালন করলে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি আত্মিক প্রশান্তিও লাভ করা যায়। তাই জিলহজ মাসে বিশেষভাবে এই তাকবির পড়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সবশেষে বলা যায়, তাকবিরে তাশরিকের সময়, নিয়ম ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি। ছোট এই আমলটি যথাযথভাবে পালন করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়।
কসমিক ডেস্ক