দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন সরকার পরিবর্তনের পর সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটি সামনে আসতে পারে, তা হলো সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ কারণে এখনই এ বিষয়ে খোলামেলা ও নির্মোহ আলোচনা শুরু হওয়া জরুরি।
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, তাদের জনসমর্থন প্রায় কাছাকাছি। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে দ্রুত আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা সংকটে পড়লে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়, যার পরিণতি কখনো কখনো গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ক্ষমতায় যাওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের কিছু অংশ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। নতুন সরকার এই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা, গণবিক্ষোভ এমনকি সহিংস পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
আগামী সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা। পশ্চিমা উন্নয়ন সহযোগীরা একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারের প্রত্যাশা করে। অতীতের দুর্নীতি ও অদক্ষতা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতি ও কূটনীতিতে। একই সঙ্গে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করাও বড় পরীক্ষার বিষয় হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রশ্নে বড় দুই দলের অবস্থান ভিন্ন। একদিকে বাস্তববাদী কূটনীতির প্রয়োজন, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে না। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্ব, আঞ্চলিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও নতুন সরকারের দক্ষতার পরীক্ষা নেবে।
কসমিক ডেস্ক