ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদভাবে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ১০ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং মানুষ যেন ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারে—সে লক্ষ্যেই তারা মাঠে কাজ করছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহজাদপুর বাঁশতলা, নূরের চালা বাজার, নবধারা সড়ক ও একতা সড়ক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের উদ্যোগ আসলে ধোঁকাবাজি ও ভোট কেনার কৌশল। তার দাবি, অতীতেও এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে মানুষ এসব প্রলোভনে সাড়া দিচ্ছে না।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারেন—সে বিষয়টিকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-১১ আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পোস্টার টাঙানো হচ্ছে। অথচ তারা নিয়ম মেনে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদাহরণ।
তিনি বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, সেগুলোর বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেক প্রকল্প আগেই দেশে চালু রয়েছে। নতুন করে কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-১১ আসনের স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এলাকাজুড়ে পানি ও গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সকালে গ্যাস চলে গেলে সারাদিন আর আসে না। পানির সমস্যা সমাধানে ওয়াসায় আবেদন করা হয়েছে। এসব সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে মাদকের কারবার চলছে এবং এতে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তার অভিযোগ, এই অপতৎপরতায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও জড়িত। ঢাকা-১১ আসন থেকে মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
চাঁদাবাজি ও ভূমি দখল প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর এসব সমস্যা আরও বেড়েছে। আগে যেমন আওয়ামী লীগ আমলে দখলদারি ছিল, এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতাকর্মীরাও একই পথে হাঁটছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধেও তাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ কী করছে তার চেয়ে নিজেদের কর্মসূচি ও অ্যাজেন্ডা নিয়েই তারা বেশি কথা বলছেন। দুর্নীতি, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং সংস্কারের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চাইছেন তারা। তার দাবি, মানুষের কাছ থেকে তারা স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শাপলা কলির বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ১০ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হেঁটে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা শোনেন।