আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াত নেতারা এই দাবি তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হলে দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন অপরিহার্য। তার ভাষায়, “একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে কারণ হলো—কিছু জায়গায় দলীয় ডিসি ও এসপি দায়িত্বে রয়েছেন।”
তিনি বলেন, এজন্যই নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে—যেসব ডিসি ও এসপির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তা বদলির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, লটারির মাধ্যমে বদলি হলে কে কোথায় যাবে, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা বিতর্ক থাকবে না।
অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তীতে পুলিশ সুপার পদে লটারির মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দিলেও জেলা প্রশাসক পদে সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়নি। অথচ সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকরাই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সুপারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত নেতারা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের বলেন, একই ধরনের অনিয়মে কোথাও মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, আবার কোথাও হয়নি। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভোটের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও এখনো মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি তথ্য উপদেষ্টাকে ফোনে জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, উপদেষ্টা বিষয়টি অনেকটাই স্বীকার করে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেছেন।
প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তোলে জামায়াত। তাদের দাবি, কোনো কোনো প্রার্থী বা নেতাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হলেও একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যদের ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, কমিশনকে আরও দৃঢ় হতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিকার অর্থেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে চায়।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচন যদি ‘অ্যারেঞ্জড নির্বাচন’-এ পরিণত হয়, তাহলে দেশ গভীর অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক