মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র লড়াইয়ে বিএনপির অনেক নেতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র লড়াইয়ে বিএনপির অনেক নেতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 21, 2026 ইং
মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র লড়াইয়ে বিএনপির অনেক নেতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়ে গেছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি সংসদীয় আসনে বিএনপির অন্তত ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে নির্বাচনের আগে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক ও বর্তমান বহু স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিনেও তাঁরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। এতে করে অনেক আসনে দলীয় প্রার্থী ও জোট সমর্থিত প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে থাকছেন।

গতকাল মঙ্গলবার ছিল সারা দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অসংখ্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও বিএনপির বিদ্রোহীদের বড় একটি অংশ নির্বাচনে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকার ২০টি আসনে ২৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও দেশব্যাপী প্রায় ৫০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন।

জোটের আসন ভাগাভাগির চুক্তি অনুযায়ী যেসব আসন মিত্র দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনের অন্তত ছয়টিতে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা, পটুয়াখালী-৩ আসনে হাসান মামুন, সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডা. মো. শহিদুল ইসলাম এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উল্লেখযোগ্য।

ঢাকা-১২ আসনে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইফুল আলম নীরব নির্বাচন করছেন, যেখানে বিএনপি দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং জোটসঙ্গী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক প্রার্থী। ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন, যেখানে বিএনপির সমর্থনে গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান প্রার্থী।

বিএনপির তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় দলটি বর্তমানে ২৮৯টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল ও রিট আবেদন করেছেন। তবে এসব বিষয়ে আদালতের রায় বিএনপির পক্ষে না এলে কিছু অঞ্চলে দলটির অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে বলে নেতারা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ চারটি দলকে নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে বিএনপির এক প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সাত শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

অন্যদিকে, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, ১২২টি দেশ থেকে প্রবাসীরা পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন এবং ভিন্ন ভিন্ন দেশের ডাক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি