অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই দেশের মানুষের আশা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি, আর গণভোটে ইতিবাচক সাড়া পেলে সেই সংস্কারের পথ সুগম হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, গণভোট সম্পর্কে গ্রামের মানুষ জানে না—এমনটি ভাবার কারণ নেই। সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেরাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, জনগণের মধ্যে গণভোট নিয়ে আগ্রহ ও সচেতনতা রয়েছে।
তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী—এই তিনটি জেলা সফর করবেন। পাশাপাশি শুক্রবারই সিরাজগঞ্জে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। এসব সফরের সময় গণভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারাও এই সংস্কার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেবে। তবে অতীতে কখনোই সুশৃঙ্খল ও সর্বজনগ্রাহ্য সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, আগের সংস্কারগুলো ছিল দলভিত্তিক। যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সংস্কার করেছে। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার ফলে একটি ইতিবাচক দিক তৈরি হয়েছে। এখন যে কেউ ক্ষমতায় এলেও জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, এ কারণেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি। তাহলেই বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছা, আশা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
পে স্কেল প্রসঙ্গে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর পর পে স্কেল নির্ধারণ করা হচ্ছে, যেখানে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ জড়িত। এ নিয়ে কাজ চলছে এবং তিনি আশা করছেন, দ্রুতই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।
তিনি স্বীকার করেন, দেশে বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট রয়েছে। তবে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।
গুরুদাসপুর মিনি স্টেডিয়াম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্টেডিয়ামটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। একনেক সভায় এ প্রকল্প নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্টেডিয়ামটি একটি বড় প্রকল্প হলেও এর গুণগত মান সন্তোষজনক। পুরোপুরি প্রস্তুত হলে সেখানে খেলাধুলা শুরু হবে এবং তখন এর সুফল আরও স্পষ্ট হবে।
এ সময় অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কসমিক ডেস্ক