ভারতে অবস্থানরত নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, তসলিমা নাসরিন যদি বাংলাদেশে ফিরতে চান, তাহলে তাকে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। এরপর সরকার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তসলিমা নাসরিন অতীতে যাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে ফিরে তিনি চাইলে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে তামাদি প্রযোজ্য নয়। ফলে ভুক্তভোগী হিসেবে তসলিমা নাসরিন আইনগত প্রক্রিয়ায় মামলা করার সুযোগ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ বা সংকটের মধ্যে নেই। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকারী একজন মার্কিন কূটনীতিকের ভারত সফর এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, তা স্বাভাবিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ বলেই তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই মার্কিন কূটনীতিক ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছেন। তাই তার সফরকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার কোনো কারণ নেই বলে সরকারের অবস্থান।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য ক্ষমতায় টিকে থাকা নয়; বরং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা।
এ ছাড়া তিনি জানান, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠেয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের সম্মতির ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। অতীতের অনিয়ম ও হয়রানি দূর করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক