সংসদ সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে গণভোট আয়োজন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এসব সংস্কার প্রস্তাবে ‘না’ বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংস্কার একটি চলমান ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া, যার চূড়ান্ত অনুমোদন জনগণের মাধ্যমেই আসা উচিত।
গতকাল সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি তাঁতিপাড়ায় নিজ পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সংসদের যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিয়ে জনমতের প্রতিফলন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামতই শেষ কথা—এই নীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে।
মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কার কোনো এককালীন বিষয় নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও সংসদের কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে—এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে যেসব সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে আনা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বিএনপির অবস্থানের মৌলিক কোনো বিরোধ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অনেক আগেই এসব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিল। ২০১৬ ও ২০২৩ সালে দলটির ঘোষিত ‘৩১ দফা’ কর্মসূচির মধ্যেই সংসদ ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুতরাং এখন যেসব সংস্কার নিয়ে গণভোট হচ্ছে, তা নতুন কোনো বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে জনগণের মতামতের বিকল্প নেই। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি সংস্কারগুলো সমর্থন করে, সেটিই হবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তবে একদিকে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানালেও দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু এই অপেক্ষার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি জনগণকে আতঙ্কিত করছে।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে এবং বিশেষ করে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী পরিকল্পিতভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
নির্বাচনের প্রাক্কালে সহিংসতা রোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তার মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি।
সংস্কার, গণভোট ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে জনগণের রায়েই দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে। আর সেই পথেই এগোনোর আহ্বান জানান তিনি।