নবম পে স্কেল ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, প্রথমেই বেতন বৃদ্ধি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নবম পে স্কেল ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, প্রথমেই বেতন বৃদ্ধি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 30, 2026 ইং
নবম পে স্কেল ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, প্রথমেই বেতন বৃদ্ধি ছবির ক্যাপশন:

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিনটি বেতন কমিশন–সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর পরিবর্তন একসাথে না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রথম ধাপেই মূল বেতন বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। সম্প্রতি এই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের আর্থিক পরিস্থিতি ও বাজেটের চাপ বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়ন করাই বাস্তবসম্মত হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা এবং ঝুঁকি ভাতার মতো অন্যান্য সুবিধাগুলো পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এই বিষয়গুলোতে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের পরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

জানা গেছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা সুষম রাখতে পে স্কেল একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত দাঁড়াবে ১:৮। তুলনামূলকভাবে এটি আগের কাঠামোর চেয়ে কম বৈষম্যপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর প্রায় ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পে কমিশন গঠন করে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারা সুপারিশ জমা দেয়।

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকায় দাঁড়ায়। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া ১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সকল স্তরে ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতে উচ্চ গ্রেডগুলোর ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। বিশেষ করে যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা এবং ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসবে।

তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম দেখা যেতে পারে।

এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের এই প্রস্তাব সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ডেভিল হান্ট ফেজ–২, ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর তিন থানায় অভিযানে গ্রে

ডেভিল হান্ট ফেজ–২, ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর তিন থানায় অভিযানে গ্রে