সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের জানিয়েছেন, আসন্ন গণভোটে জাপা ‘না’ ভোট দেবে এবং আইনের শাসন ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে জনগণকেও ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবে। তাঁর দাবি, ‘হ্যাঁ’ ভোট সংবিধানবিরোধী এবং এর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়বে। তাঁর ভাষায়, স্বৈরাচার রোধের নামে যে সংস্কারের প্রস্তাব আনা হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কার্যকর ক্ষমতা রাখা হয়নি, বরং তাঁকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
জি এম কাদের বলেন, একটি দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত সরকারপ্রধানের হাতে যথাযথ ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ক্ষমতা না দিলে কোনো সরকারপ্রধানই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল নির্বাচিত সংসদের রয়েছে, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯৬টিতে লাঙল প্রতীকে প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। তিনি বলেন, দল সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে টানা তিনবার সংসদে বিরোধী দল হিসেবে থাকা জাতীয় পার্টি জুলাই অভ্যুত্থানের পর ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে সমালোচনার মুখে পড়ে। শেখ হাসিনার সময়ে দলটি ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে পরিচিত ছিল—এমন সমালোচনাও উঠে আসে। তবে ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারকে সমর্থন দিলেও ছাত্রনেতৃত্বের বিরোধিতার মুখে জাপা সরকারের ঘনিষ্ঠতা থেকে সরে এসে সমালোচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার মামলার নামে জনগণের ওপর ‘স্টিম রোলার’ চালাচ্ছে। জাপার কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণা চালালে মামলা দিয়ে আটক করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদেরও মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে এবং তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মব তৈরি করে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলা হলেও বর্তমান ক্ষমতাকাঠামোর নিয়ন্ত্রকেরা দেশে নাৎসিবাদের দিকে এগোচ্ছে।
নিজেকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে জি এম কাদের বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ঐক্যবদ্ধ না হলে তারাও ধ্বংসের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘হিটলারি মানসিকতা’ রুখে দাঁড়াতে হবে।
কসমিক ডেস্ক