নতুন বছরের শুরুতেই খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বছরের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই নগরী ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক গুলির ঘটনায় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে।
গত ৯ জানুয়ারি খুলনা নগরীর ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় ভৈরব নদ থেকে রাজীব হোসেন ওরফে ঘাউড়া রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল)-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। নিহতের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন দাবি করেন, রাজিব বর্তমানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছেড়ে দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে পুরোনো শত্রুতার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এর পরদিন ১০ জানুয়ারি রাতে রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় আবদুল বাছেদ বিকুল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজ্জাক মীর জানান, বিকুলসহ কয়েকজন কদমতলা মাঠে পিকনিক করছিলেন। রাতের দিকে নাচ-গান চলাকালে রাত ১টার দিকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে, টার্গেট কিলিংয়ের আরেক ঘটনায় ১০ জানুয়ারি রাতে রূপসা এলাকায় সাগর হত্যা মামলায় মিরাজ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর জাবুসা অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের সামনে সাগরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
এর আগে ৭ জানুয়ারি নগরীর খানজাহান আলী থানার যোগীপোল এলাকায় রানা নামের এক যুবককে গুলি করা হয়। একটি গুলি তার বাম হাতে এবং আরেকটি পিঠে বিদ্ধ হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এছাড়া ২ জানুয়ারি রূপসা এলাকায় ফারুখ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকেও গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা।
৩ জানুয়ারি ডুমুরিয়া উপজেলার শালতা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
নাগরিক সমাজের নেতারা বলছেন, গত ১৬ মাসে খুলনায় অন্তত ৪৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০টি খুন ঘটেছে সন্ত্রাসীদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে।
খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, “ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি।” তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ড তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় খুলনার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন বছরের শুরুতেই এই পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।