গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ঘটনা কেবল একজন আহত রাজনীতিকের চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং মানবিক বিবেচনার এক স্পষ্ট প্রতিফলন। সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর বিদেশযাত্রার সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের উপস্থিতি সেই বার্তাকেই আরও দৃঢ় করেছে।
হাদীর ওপর গুলির ঘটনা দেশজুড়ে রাজনীতির নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী কণ্ঠের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁকে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সরকারকে একটি স্পষ্ট অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে—রাজনৈতিক মতভেদ যাই থাকুক, জীবনের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার প্রশ্নাতীত।
মানবিক দিক থেকে বিষয়টি আরও গভীর। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় হাসপাতালে যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা হাদীর জন্য এই বিদেশযাত্রা নতুন করে বাঁচার আশা তৈরি করেছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন ছিল আবেগঘন; সেখানে রাজনীতির হিসাব নয়, প্রাধান্য পেয়েছে একজন মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি নজির তৈরি করতে পারে। সহিংস রাজনীতির অভিযোগের মুখে রাষ্ট্র যদি আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করে, তাহলে তা পরিস্থিতি প্রশমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি সরকারের জন্যও একটি পরীক্ষা—এই মানবিক অবস্থান যেন কেবল একটি ঘটনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সার্বিকভাবে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শরিফ ওসমান হাদী রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন দেখার বিষয়, এই চিকিৎসা যাত্রা শুধু একজন ব্যক্তির সুস্থতা নয়, বরং সহিংস রাজনীতির বাস্তবতায় রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকে কতটা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে।
কসমিক ডেস্ক