ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৬ সালের অর্থ আইনের আওতায় প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা সর্বোচ্চ প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম) পর্যন্ত কর রেয়াত পাবেন।
রবিবার (২ আগস্ট) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলকারীরা এই কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। তবে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে কোনো কর রেয়াত দেওয়া হবে না।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর হবে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি।
এনবিআরের ভাষ্য, এই নতুন প্রণোদনার উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা, স্বেচ্ছায় কর পরিপালনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা।
২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ই-রিটার্ন সেবা গত ২২ জুলাই চালু হয়েছে। করদাতারা etaxnbr.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এছাড়া ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে।
রিটার্ন সফলভাবে জমা হওয়ার পর করদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট রিসিপ্ট ও আয়কর সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে কর্মদিবসে এনবিআরের কল সেন্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।
কসমিক ডেস্ক