সমঝোতা নিয়ে বিভক্ত গণঅধিকার পরিষদ, নির্বাচনের আগে চরম অস্থিরতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সমঝোতা নিয়ে বিভক্ত গণঅধিকার পরিষদ, নির্বাচনের আগে চরম অস্থিরতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 9, 2026 ইং
সমঝোতা নিয়ে বিভক্ত গণঅধিকার পরিষদ, নির্বাচনের আগে চরম অস্থিরতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতা ইস্যুতে গভীর সংকটে পড়েছে গণঅধিকার পরিষদ। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হবে কি না—এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ফোরামগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এই বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি, দায়িত্ব অব্যাহতি এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর গণঅধিকার পরিষদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম উচ্চতর পরিষদ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই সভায় ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে অধিকাংশ নেতাই সম্মতি দেন। তবে সভার পরদিনই দলীয় সভাপতি নুরুল হক নুর ও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের উদ্যোগে বিএনপির সঙ্গে দুইটি আসনে সমঝোতার খবর সামনে আসে। এতে দলের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২৭ ডিসেম্বর, যখন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে শীর্ষ নেতার দলত্যাগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে। অনেকেই এটিকে দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে। দলের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান এক বিবৃতিতে দাবি করেন, গণঅধিকার পরিষদ কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা বা জোট করেনি এবং এককভাবেই নির্বাচন করছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় সভাপতি নুরুল হক নুর এই বিবৃতিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

এরপর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শাকিল উজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়, তিনি অনুমতি ছাড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। তবে শাকিল উজ্জামানসহ উচ্চতর পরিষদের একাধিক সদস্য এই সিদ্ধান্তকে গঠনতন্ত্র পরিপন্থি বলে দাবি করেছেন।

উচ্চতর পরিষদের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুইটি আসনের বিনিময়ে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং সভাপতি নুরুল হক নুর ও রাশেদ খান ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। নেতাদের দাবি, বিএনপি যদি সম্মানজনক সংখ্যক আসন না ছাড়ে, সে ক্ষেত্রে একক নির্বাচনই ছিল দলীয় অবস্থান।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীরা ভোটারদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়ছেন, যা নির্বাচনী কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদ এখন নেতৃত্ব সংকট ও আস্থাহীনতার এক কঠিন সময় পার করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আগামী সরকার গঠনে জনসমর্থন অপরিহার্য: তারেক রহমান

আগামী সরকার গঠনে জনসমর্থন অপরিহার্য: তারেক রহমান