যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 23, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করলেন প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ছবির ক্যাপশন:
ad728

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, “এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।”

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। ভবিষ্যৎ সরকার এই উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাণিজ্য প্রসঙ্গে ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক হ্রাস সম্ভব হবে। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য আলোচনা ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নিজের টাকা নয়, জনগণের অর্থেই জনপ্রতিনিধি হতে চান দুই প্রার্থ

নিজের টাকা নয়, জনগণের অর্থেই জনপ্রতিনিধি হতে চান দুই প্রার্থ